আজ সোমবার | ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
| ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা সফর, ১৪৪২ হিজরি | সময় : রাত ১০:৫১

মেনু

ইতালির সর্বনাশের কারণ আটলান্টা-ভ্যালেন্সিয়া ফুটবল ম্যাচ!

ইতালির সর্বনাশের কারণ আটলান্টা-ভ্যালেন্সিয়া ফুটবল ম্যাচ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রবিবার, ২২ মার্চ ২০২০
৭:২৭ অপরাহ্ণ
40 বার

ইতালিতে দাবানলের মতো করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার নেপথ্যে কি কোনও ফুটবল ম্যাচ? সে দেশের চিকিৎসকরা এ রকমই একটা আশঙ্কা প্রকাশ করা শুরু হয়েছে।

দেশটির প্রথম সারির একটি সংবাদপত্রে ইমিউনোলজিস্ট ফ্রান্সেসকো লে ফোকে বলেন, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আটলান্টা বনাম ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচে বিপুল জনসমাবেশ হয়েছিল। লোম্বার্ডি অঞ্চলের বার্গামোতেই আটলান্টা ক্লাব অবস্থিত।

সরকারি হিসাব বলছে, সেদিন মিলানের সান সিরো স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন চল্লিশ হাজারের উপর ফুটবলভক্ত। বার্গামো থেকে দলে-দলে মানুষ যান খেলা দেখতে। পরে দেখা যাচ্ছে, করোনাভাইরাসে ইতালিতে সবচেয়ে আক্রান্ত শহর এই বার্গামোই।

ইতালিয় ক্লাবের জয় দেখে সেদিন উৎফুল্ল জনতা একে অপরকে জড়িয়ে ধরছিল, হাতে হাত মিলিয়ে উৎসব করছিল। তাতে সর্বনাশ হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা। বার্গামোতে যেভাবে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যু সংখ্যা, তাতে ডাক্তারদের একাংশের এই আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মত।

ডাক্তার ফ্রান্সেসকোর সংযোজন, ১৯ ফেব্রুয়ারির ওই ম্যাচের পরে এক মাস পেরিয়ে গিয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রকোপ চরম আকার নেয় সংক্রমণ শুরুর এক মাসের আশেপাশে।

ফ্রান্সেসকো বলেন, আমার মনে হয়, অনেকে জ্বর বা সর্দি-কাশি থাকলেও ম্যাচ দেখতে যাওয়া বাতিল করতে চায়নি। আগে থেকে টিকিট কিনে রেখেছে। কে আর ম্যাচ দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়?

তার পরেই ডাক্তারের উপলব্ধি, হয়তো তখন কেউ বুঝতে পারেনি। কারণ, ততটা ছড়ায়নি সংক্রমণ। ফিরে তাকিয়ে দেখলে এখন মনে হচ্ছে, সেদিন অত লোকের সমাবেশ সর্বনাশ ডেকে এনেছে।

ওই ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকদের অনেকের কয়েক দিনের মধ্যেই করোনাভাইরাস পরীক্ষায় ‘পজিটিভ’ ফল আসে। স্পেন থেকে খেলতে আসা ভ্যালেন্সিয়া দলের পঁয়ত্রিশ শতাংশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হন।

একা ফ্রান্সেসকো নন, এমন সন্দেহ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন ইতালির আরও কয়েকজন ডাক্তার। বার্গামো থেকে সড়কপথে মিলান এক-দেড় ঘণ্টার পথ। ম্যাচের দিন সেই সড়কপথে এত গাড়ি ছিল যে, ট্র্যাফিক জ্যামে বহুক্ষণ আটকে থাকেন অনেক মানুষ।

ফাবিয়ানো জানান, কীভাবে তাদের হাসপাতালে মুহূর্তের মধ্যে বদলে গিয়েছিল করোনা নিয়ে পরিবেশ। ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম তারা বুঝতে পারেন করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে রোগী আসা শুরু হয়েছে। শুক্রবারে প্রথম করোনা-আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়। তখনও কেউ বুঝতে পারেননি, হিমশৈলের চূড়া দেখা গিয়েছে মাত্র।

এরপর ফাবিয়ানোর কথায়, সবকিছু বদলে গেল ১ মার্চ। হাসপাতালে পৌঁছে বুঝতে পারিনি, হাসপাতালে এসেছি না যুদ্ধক্ষেত্রে। যেদিকে চোখ যায়, শুধু নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগী। সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একের পর এক স্ট্রেচার। সকলের শ্বাসকষ্ট। আতঙ্ক, আতঙ্ক! কে ভাবতে পেরেছিল, ফুটবলপ্রেম এক দিন ডেকে আনবে মৃত্যুমিছিল!

দৈনিক বঙ্গদর্পণ/ এ আর

ভারতে পেঁয়াজের কেজি ৬ রুপি
৩১ অক্টোবর ২০১৯ 24883 বার